ইতিহাস

বরিশাল, কীর্তনখোলার তীরে বেড়ে ওঠা একটি বৈচিত্র্য ও ঐতিহ্যের শহর। এই শহরকে সুন্দর ও সমৃদ্ধশীল করতে স্থানীয় সরকার সংস্থা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন-বিসিসি।

বরিশাল মৌজার তালুকের  হরিধারা নাথ মালিক দেবী চরন ও অন্যান্য ১৮৩১ সালে সরকার মালিক রাম কানাই রায়ের নিকট থেকে বরিশাল মৌজা ক্রয় করে। বাড়ৈকরন থেকে বাকেরগঞ্জ, বাকেরগঞ্জ থেকে  ১৮০১ সালে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মিঃ উইল্টনের প্রচেষ্টায়  জেলা সদর বরিশাল স্থানান্তরিত হয়। ১৮৬৯ সালে বরিশাল শহরে  টাউন কমিটি গঠন  করা হয়। জেলা  প্রশাসক  জে. সি প্রাইজ ছিলেন টাউন কমিটির  প্রথম সভাপতি। ১৮৭৬ সালে বরিশাল শহরকে মিউনিসিপ্যালিটি হিসাবে ঘোষনা করা হয়। স্থানীয়  বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে বরিশাল মিউনিসিপ্যালিটি গঠন করা হয়। ২৫ বর্গকিলোমিটারের বরিশাল পৌরসভায় ওয়ার্ড সংখ্যা ছিল দশটি।

বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে বরিশাল পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ। কালের পরিক্রমায় ১৯৮৫ সনে এটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভাতে এবং ২০০২ সালের ২৫ জুলাই বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হয়। ২৫ বর্গকিলোমিটার থেকে বর্ধিত হয়ে এর আয়তন দাঁড়ায় ৫৮ বর্গকিলোমিটারে । বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান লোকসংখ্যা প্রায় ৬ লক্ষ ও ওয়ার্ড সংখ্যা ৩০ টি।  বরিশাল সিটি কর্পোরেশন ৩ টি অঞ্চলের মাধ্যমে প্রশাসনিক ও সেবামূলক উন্নয়ন কর্মকান্ড  পরিচালিত হয়। এই শহর প্রাকৃতিক নদী ও খাল দ্বারা পরিবেষ্টিত বিধায় এক সময় বাংলার ভেনিস বলা হত। কিন্তু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য আজ হারিয়ে যাচ্ছে। তাই নগরবাসীকে সাথে নিয়ে বরিশাল শহরের হাড়ানো রূপ ফিরিয়ে আনতে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সর্বদা দায়বদ্ধ। তবে বর্তমান গতিধারায় জনসংখ্যা বৃদ্ধি  বলবৎ থাকলে ২০৩০ সাল নাগাদ মোট জনসংখ্যার  ৪০ ভাগ শহর এলাকায় বসবাস করবে। তাই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধশীল বরিশাল গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছি।