History and Facts

HISTORY AND FACTS

বরিশাল সিটি কর্পোরেশন, বরিশাল।

সেবা প্রদান প্রতিশ্রুতি (Citizen's Charter)

১। ভূমিকাঃ

অপুরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি বরিশাল। কীর্তনখোলা নদীর তীরে অবস্থিত প্রাচ্যের ভেনিস খ্যাত বরিশাল মহানগরী। ঐতিহ্যবাহী ঘটনাবলী শত জ্ঞাণীগুণীর পদচারনায় মুখরিত এবং নানা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক পট পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে শৈশব থেকে আজ যৌবনে পদার্পন করেছে বরিশাল মহানগরী।

২। মিশন ও ভিশনঃ

নগরবাসীদের বিভিন্ন  রকম সেবামূলক কর্মকান্ড সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক পরিচালিত হচ্ছে সিটি কর্পোরেশন নগরীর স্থাপনা, ট্যাক্স, পরিচ্ছন্নতা, সড়কে সড়ক বাতি, হোল্ডিং কর আদায়, পানি সরবরাহ ও অবকাঠামো উন্নয়ন ইত্যাদি জনগুরুত্বপূর্ন কার্যাদি পরিচালনা করে থাকে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির কথা বিবেচনা করে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা এবং বাড়তি লোকের নাগরিক সুবিধা প্রদান নিশ্চিত করা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান লক্ষ্য। এছাড়া সিটি কর্পোরেশনের জনগুরুপূর্ণ মিশনসমূহ নিমণরূপঃ-

  • আগামী ২০২০ সালের মধ্যে বরিশাল মহানগরীকে পরিবেশ বান্ধব নগরী হিসাবে গড়ে তোলা।
  • আগামী ২০২১ সালের মধ্যে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রমকে ডিজিটালাইজড করে তোলা।
  • আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে  বরিশাল মহানগরীকে একটি আন্তর্জাতিক মানের নগরী হিসাবে গড়ে তোলা।

৩। বিবর্তনের ইতিহাসঃ

সুদূর অতীতে দক্ষিণ বঙ্গের মানুষের জীবন ধারনের একটি অন্যমত মাধ্যম ছিল লবন ব্যবসা। এর কারণেই বিলুপ্ত সুগন্ধা আজকের কীর্তনখোলা নদীর তীরে গড়ে উঠেছিল একটি ছোট্ট বন্দর। সতের শতকের মাত্র ৬৮ একর জমির উপর গড়ে উঠা এ বন্দরটির নাম ছিল গিরদে বন্দর। লবন ব্যবসায়ী ও জেলেরা বাস করত এই বন্দরে। কালের বিবর্তনে বড় বড় লবনের গোলা এবং শুল্ক আদায়ে বড় চৌকি গড়ে ওঠে এখানে। ইংরেজ বণিকরা এ গিরদে বন্দরকে বড়িসল্ট বলত যা পরবর্তীকালে বরিশাল নাম পরিচিতি লাভ করে। বরিশাল নামকরণ নিয়ে একটি রূপকথার গল্প প্রচলিত আছে। মিঃ বেরী নামের এক পর্তুগীজ এক বিদূষী কন্যা শেলীর প্রেমে ব্যর্থ হয়ে আত্মহত্যা করে। এ সংবাদ শুনে শেলীও আত্মহত্যা করে। উভয়কে শিবপুর বিল্ডিং এর পার্শ্বে কবর দেয়া হয়। মিঃ বেরী ও শেলীর নামানুসারে গিরদে বন্দরের নাম করণ করা হয় বরিশাল চন্দ্রদ্বীপ। রাজবংশের রাজা রামচন্দ্র সাহা পাশায় রাজধানী প্রতিষ্ঠার পর গিরদে বন্দরের চারিধারে জনবসতি গড়ে উঠতে থাকে। কাউনিয়া, আমানতগঞ্জ, কাশিপুর, জাগুয়া, বগুড়া-আলেকান্দাসহ প্রায় সব এলাকাতেই জনপদের সৃষ্টি হয়। বরিশাল মৌজার তালুকের নাম হরিধারা নাথ মালিক দেবী চরণ ও অন্যান্য ১৮৩১ সালে সরকার মালিক রাম কানাই রায়ের নিকট থেকে বরিশাল মৌজা ক্রয় করে। বাড়ৈকরণ থেকে বাকেরগঞ্জ, বাকেরগঞ্জ থেকে ১৮০১ সালে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মিঃ উইল্টনের প্রচেষ্টায় জেলা সদর বরিশাল স্থানামত্মরিত হয়। মোঘল শাসনের অমিত্মমলগ্নে উপমহাদেশের কোন কোন অঞ্চলে শহরবাসীর সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মেয়র নিয়োগ করে শহর পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব অর্পন করা হয়। ১৮৬৯ সালে বরিশাল শহরে টাউন কমিটি গঠন করা হয়। তদানিমত্মন জেলা প্রশাসক জে.সি প্রাইজ ছিলো টাউন কমিটির প্রথম সভাপতি। ১৯৭৬ সালে বরিশাল শহরকে মিউনিসিপ্যালিটি হিসাবে ঘোষণা করা হয়। স্থানীয় বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে বরিশাল মিউনিসিপ্যালিটি গঠন করা হয় জনসাধারণের মধ্য থেকে প্যারীলাল রায় ছিলেন বরিশাল মিউনিসিপ্যালিটির প্রথম চেয়ারম্যান। ২৫ বর্গকিলোমিটারের বরিশাল পৌরসভায় ওয়ার্ড সংখ্যা ছিল দশটি। ১৯৮৫ইং সনে এটি প্রথম শ্রেনীর পৌরসভাতে এবং ২০০২ সালের ২৫ জুলাই বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হয়। ২৫ বর্গকিলোমিটার থেকে বর্ধিত এর আয়তন দাঁড়ায় ৪৫ বর্গকিলোমিটারে। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান লোক সংখ্যা প্রায় ৫ লক্ষ, ওয়ার্ড সংখ্যা ৩০টি। ৩০টি ওয়ার্ডে ৩০জন সাধারণ আসনের ওয়ার্ড কমিশনার নির্বাচিত হয় এবং ১০ জন সংরক্ষিত আসনের ওয়ার্ড কমিশনার (মহিলা কমিশনার) নির্বাচিত হয়। ৩০টি ওয়ার্ডের মধ্য থেকে মাননীয় মেয়র ও সম্মানিত কমিশনারগণ জনগনের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে থাকেন। বরিশাল সিটি কর্পোরেশন ৩টি অঞ্চলে বিভক্ত। ৩টি বিভাগের মাধ্যমে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক উন্নয়ন ও সেবামূলক কর্মকান্ড পরিচালিত হয়।